সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

ডিম-মুরগি বেচে ফুলেফেঁপে উঠছে বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের অন্যতম প্রধান উৎস এ দুই পণ্যের বাজারে অস্থিরতার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর। নানামুখী সংকটেও ডিম ও মুরগিসহ পোলট্রি পণ্যের ব্যবসায় ভালো মুনাফা করছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে এ খাতের অন্যতম শীর্ষ তিন কোম্পানি কাজী ফার্মস, সিপি বাংলাদেশ ও প্যারাগন পোলট্রির মোট সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়

দেশের মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ছে। দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের অন্যতম প্রধান উৎস এ দুই পণ্যের বাজারে অস্থিরতার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর। নানামুখী সংকটেও ডিম ও মুরগিসহ পোলট্রি পণ্যের ব্যবসায় ভালো মুনাফা করছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে এ খাতের অন্যতম শীর্ষ তিন কোম্পানি কাজী ফার্মস, সিপি বাংলাদেশ ও প্যারাগন পোলট্রির মোট সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়।

মুনাফা থেকে যাবতীয় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ব্যয়, আয়কর ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পরিশোধের পর যে অংক অবশিষ্ট থাকে সেটিই একটি কোম্পানির সংরক্ষিত মুনাফা। এটিকে কোম্পানির পুনর্বিনিয়োগযোগ্য মুনাফা হিসেবেও দেখা হয়। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত মুনাফা অর্জনের মধ্য দিয়ে আরো ফুলেফেঁপে উঠছে পোলট্রি খাতের তিন করপোরেট প্রতিষ্ঠান।

দেশে মুরগির বাচ্চা, পোলট্রি খাদ্যের (ফিড) সিংহভাগ উৎপাদন করছে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি। পাশাপাশি ডিম ও মাংসের বাজারেরও বড় অংশ তাদের দখলে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনের পাশাপাশি চুক্তির ভিত্তিতে কোম্পানির বাইরে অন্য অনেক খামারিকেও কাজে লাগাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারের আকৃতি, মুনাফাসহ ব্যবসায়িক বিভিন্ন তথ্য প্রকাশের বিষয়ে কোম্পানিগুলো বরাবরই এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখে। কোম্পানিগুলোর দাবি, ডিম ও মাংসের বাজারে তাদের সম্মিলিত প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ১৫-২০ শতাংশের বেশি হবে না। যদিও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পোলট্রি পণ্যের বাজারের সিংহভাগই কোম্পানিগুলোর দখলে। বলতে গেলে বাজারের গতিপ্রকৃতি তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে।

পোলট্রি খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বাজার অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ২০২২ সালে অস্বাভাবিকভাবে ডিমের দাম বাড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ডায়মন্ড এগ ও সিপি বাংলাদেশকে এ বছরের জানুয়ারিতে সাড়ে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)। এর মধ্যে ডায়মন্ড এগকে আড়াই কোটি টাকা ও সিপি বাংলাদেশকে জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি টাকা।

পোলট্রি বাজারে বর্তমানে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবশালী হিসেবে দেখা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজী ফার্মস গ্রুপ, নারিশ, প্যারাগন, আফতাব, কোয়ালিটি, প্রোভিটা, সিপি, ডায়মন্ড এগ, রাশিক/জামান গ্রুপ ইত্যাদি। এর মধ্যে কাজী ফার্মস, সিপি বাংলাদেশ ও প্যারাগন পোলট্রির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বণিক বার্তার কাছে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে পোলট্রি ব্যবসা থেকে এ তিন কোম্পানি সর্বশেষ হিসাব বছরে মোট বিক্রি করেছে ৯ হাজার ৬১ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানি তিনটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৬৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে এ তিন কোম্পানির মোট সংরক্ষিত মুনাফা (রিটেইনড আর্নিংস) দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকায়। উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোলট্রি খাতের বিক্রি থেকে আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর ধার্য ছিল।

ব্রয়লারের জিপি স্টকের বাজারে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ৮৫ শতাংশ। ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাস দেশের পোলট্রি খাতে করপোরেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক বছর আগে এক গবেষণা চালায়। গবেষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘পোলট্রি সেক্টর স্টাডি বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে আসে, দেশে মাংসের জন্য পালনকৃত ব্রয়লার মুরগির জিপি স্টক সবচেয়ে বেশি রয়েছে কাজী ফার্মস গ্রুপের। দুটি খামারে তাদের ৪৯ হাজার জিপি ব্রয়লার রয়েছে। ব্রয়লারের জিপির বাজারের ৩৪ শতাংশই কাজী ফার্মসের দখলে। প্রতিষ্ঠানটির ব্রয়লার ও লেয়ারের পিএস খামার রয়েছে সাতটি। যেগুলো একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন করছে। কোম্পানিটির জবাইখানায় একদিনে ১০ হাজার মুরগি প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে। তাদের মোট হ্যাচারির সংখ্যা ১৩টি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফিড কারখানা রয়েছে দুটি।

কাজী ফার্মস লিমিটেড ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে মোট বিক্রি করেছে ৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। এ সময় কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। আর গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির মোট সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জিসান হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পোলট্রি খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের বিপরীতে যে মুনাফা এসেছে সেটিকে নগণ্য রিটার্ন বলা যায়। তাছাড়া সংরক্ষিত মুনাফার পুরোটাই পোলট্রি খাতে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়েছে।’

দেশের পোলট্রি খাতে ১৯৯৮ সালে প্রবেশ করে থাইল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটি মুরগির বাচ্চা, পোলট্রি ফিড ও ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি পোলট্রিভিত্তিক ফাস্টফুডের ব্যবসাও করছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির পোলট্রি ব্যবসায় মোট বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১৫৩ কোটি টাকা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে সিপি বাংলাদেশের সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৭৮ কোটি টাকায়।

জানতে চাইলে সিপি বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক ডা. মো. আকরাম হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় ডিমের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। অনেকদিন ধরেই দেশে লেয়ার মুরগির সংখ্যা কম। ফলে চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদন কম হচ্ছে। মাঝে বন্যার কারণে লেয়ার মুরগি আরো কমে গেছে। এতে ডিমের উৎপাদন আরো কমে গেছে। আমাদের হিসাব অনুসারে প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লাখ ডিম কম উৎপাদন হচ্ছে। লেয়ার মুরগির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না। যেখানে ব্রয়লার মুরগির ঘাটতি ছয় মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন চাহিদার প্রায় কাছাকাছি আছে। মুরগির বাচ্চায় কোম্পানিগুলোর অনেক লোকসান হলেও পোলট্রি ফিড ও ডিম লাভেই বিক্রি করা হয়। ২০২৩ সালের ১৯ মে থেকে সিপি বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদন কার্যক্রমে নেই। বর্তমানে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পোলট্রি খাতের ১৫-২০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারের বড় অংশই প্রান্তিক খামারিদের নিয়ন্ত্রণে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় বাজারমূল্যে অস্থিরতা দেখা যায়। বর্তমানে খুচরা বাজারে যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে সেটি অযৌক্তিকই বলা যায়।’

দেশের পোলট্রি ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য একটি অংশীদার হচ্ছে প্যারাগন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড। এছাড়া গ্রুপটির অধীনে ডিইএনএম পোলট্রি কমপ্লেক্স (প্রাইভেট) লিমিটেড, রংপুর পোলট্রি কমপ্লেক্স (প্রাইভেট) লিমিটেড ও উশা পোলট্রি লিমিটেড নামে আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৭৭০ কোটি টাকার বিক্রি করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ৩৮ কোটি টাকা কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সংরক্ষিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি টাকায়। এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্যারাগন গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আমিনুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশের সাম্প্রতিক সময়ে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন ঠিক থাকলেও ডিমের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে। এর কারণ হচ্ছে জুন-আগস্টে প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক মুরগি মারা গেছে এবং অনেক মুরগি অসুস্থ হওয়ার কারণে ডিম দেয়া কমিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া বন্যার কারণে কয়েকটি জেলায় খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ৫০-৬০ লাখ পিস ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। আরেকটি দিক হচ্ছে বেশকিছু সবজি বাজারে দেরিতে আসায় ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করেও কোম্পানির লাভ থাকছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগীরা বাড়তি দামের সুযোগটা নিচ্ছে। দেশে ডিম মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ নেই।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মুরগির উৎপাদন ৩২ কোটি ৭৭ লাখ। এ সময়ে ডিমের উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি পিস। এতে বছরে মাথাপিছু ডিমের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৫টিতে। তবে পোলট্রি খাতে সরকারের পরিসংখ্যান নিয়ে অংশীজনদের প্রশ্ন রয়েছে। তারা বলছেন সরকারের তথ্যের তুলনায় প্রকৃত উৎপাদন কম। সাম্প্রতিক সময়ে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার ডিম আমদানির অনুমোদনও দিয়েছে। কিন্তু তাতেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সর্বশেষ গতকাল ডিম উৎপাদন ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে আজ থেকে উৎপাদনকারী পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে গতকালের বৈঠকে বড় কোম্পানি ও ছোট খামারিরা সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি পাইকারি আড়তে ডিম সরবরাহ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, বরিশাল, ভোলা, কুমিল্লা, ফেনী ইত্যাদি জেলায় সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হয় ২৩ লাখের বেশি। এ ডিম উৎপাদনের জন্য লেয়ার ফার্ম আছে ১ হাজার ৩৯০টি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র পণ্ডিত জানান, কিশোরগঞ্জে ডিমের দৈনিক চাহিদা ১৭ লাখ। বাকি ডিম সরবরাহ হয় অন্যান্য জেলায়।

ময়মনসিংহ জেলায় ৯৭২টি লেয়ার ফার্মে প্রতিদিন ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৪৪টি ডিম উৎপাদন হয় বলে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত ডিম ঢাকা ও অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহেদুল আলম বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১ হাজার ২৮৬টি লেয়ার খামারে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হয় ১৮ লাখ ২৬ হাজার পিসের বেশি। মাসে উৎপাদন হয় প্রায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ পিস। এর মধ্যে রাজশাহীর বাজারে প্রতি মাসে সরবরাহ করা হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ। বাকি ৬৮ লাখ দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ হচ্ছে।

বরিশাল জেলায় বর্তমানে ১৯৪টি লেয়ার খামারে ডিম উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে দৈনিক গড়ে ৯ লাখ ৪০ হাজার পিসের বেশি ডিম উৎপাদন হয় বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে স্থানীয় চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে দুই লাখ পিস। জেলায় চাহিদার বেশি ডিম উৎপাদনের পরও দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই বাজারের এ অবস্থা হয়েছে।’

দেশের ডিম উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে ফেনীতে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফেনী জেলা পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক বন্যার আগে ফেনীতে প্রতিদিন ছয় লাখের বেশি ডিম উৎপাদন হতো। কিন্তু আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর প্রায় সব খামার পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বন্যার পর কিছু খামার প্রস্তুত করে পুনরায় ডিম উৎপাদন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তা তিন লাখের পিসের নিচে রয়েছে। এক সময় ফেনীতে উৎপাদিত ডিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হলেও বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করাই সম্ভব হচ্ছে না।

আরও